বরিশালে মন্ত্রী বনাম মেয়র, তোলপাড়

বরিশাল শহরের একটি ভবন ভাঙা নিয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের একটি ভবন ভাঙা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন তারা। মেয়রের পক্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ও মন্ত্রীর পক্ষে পুলিশ প্রশাসন। এ নিয়ে রাতভর চলে উত্তেজনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৭ই অক্টোবর বিকাল চারটার দিকে হঠাৎ করেই সিটি করপোরেশনের দুটি ময়লা বহনের গাড়ি ও একটি বুলডোজার কলেজ রোডে প্রবেশ করে। ময়লা বহনের গাড়ির একটি আরিফ মেমোরিয়াল হসপিটালের পূর্ব পাশের মোড়ে, অন্যটি কলেজ রোডের পূর্ব মাথায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল আটকে দেয়। রোড ইন্সপেক্টর অনিক ও মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের বাসা ভাঙার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে এসএম জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে উচ্ছেদের নির্দেশপত্র দেখতে চান রোড ইন্সপেক্টরদের কাছে।

কিন্তু কোন ধরনের উচ্ছেদের নির্দেশপত্র দেখাতে না পারায় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি না ভাঙতে অনুরোধ করেন। তখন রোড ইন্সপেক্টররা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং দফায় দফায় ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে থাকেন।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ ফোর্স। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও স্থানীয়দের উত্তেজিত না হতে অনুরোধ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া উচ্ছেদের নির্দেশনামা দেখতে চান। সিটি কর্পোরেশনের রোড ইন্সপেক্টররা নির্দেশপত্র দেখাতে না পেরে জানান, বিষয়টি কাউন্সিলর মান্না জানেন। তখন বিধানমত নোটিশ দিয়ে ভবন ভাঙ্গার অনুরোধ করেন উপপুলিশ কমিশনার। একইসাথে সবাইকে চলে যেতে বলেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সাংবাদিকরাও জড়ো হয়। সাথে এলাকাবাসীও। এক পর্যায়ে উপপুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া ও কোতোয়ালির ওসি সবাইকে শান্ত হতে বলেন। হ্যান্ড মাইকে মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া তৃতীয় দফায় ভবন ভাঙতে মেয়রের নির্দেশপত্র চান কাউন্সিলর মান্নার কাছে। তিনি তার জবাব না দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের স্লোগান দিতে বলেন। একপর্যায়ে উপ পুলিশ কমিশনারের কাছে ‘কর্মচারী মারধরের’ অভিযোগ আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপ পুলিশ কমিশনার নিজেই মান্নাকে বলেছেন, ‘আমি ঘটনার শুরু থেকেই ছিলাম। কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে দেখিনি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের কেউ মারধর করবে আর পুলিশ তা নীরবে দেখবে-এমনটা বলা অযৌক্তিক।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু, প্যানেল মেয়র-২ অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও মহানগর আওয়ামী লীগের মৎস্য ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল। তারা সড়কে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টাকারীদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার জন্য বলেন। এরপর পৌনে নয়টার দিকে সড়ক ছেড়ে বুলডোজার, ময়লা বহনের গাড়ি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা চলে যান।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পদক . মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, আমার নির্মাণাধীন ভবন ভাঙ্গার যে চেষ্টা চালানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তি আক্রোশে। আমি নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করেছি। তারপরও কোথাও সমস্যা হলে বিধানমত লিখিতভাবে জানাতে পারতো। কিন্তু তা না করে একজন কাউন্সিলর আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে এই কাজ করেছেন। রাতে জাকিরের বাসায় যান পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। জানা গেছে, ওই রাতেই মন্ত্রী প্রশাসনকে কিছু নির্দেশ দেন। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, আইন অনুযায়ী তিনি ভবন উচ্ছেদ করবেনই। তার সঙ্গে জাকিরের ভাইয়ের ভবনও ভেঙে ফেলবেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন- গত তিন বছর নির্বাচন না দিয়ে প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন আটকে রেখেছে সে ব্যাপারে কেন তারা চুপ করে আছেন?

সুত্র: মানবজমিন।

আরও পড়ুন