কলারোয়ায় ফিল্মি স্টাইলে গৃহবধূকে পাশবিক নির্যাতন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে অপতৎপরতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বসত ভিটা থেকে বের করে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা, পাশবিক নির্যাতনের এবং পুলিশের অবহেলা, হুমকি ধামকির বিচার দাবি করেছেন অসহায় স্বামী ও তার পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৫ নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের ৭ নং হরিনা-গোয়ালচাতর ওয়ার্ডের গোয়ালচাতর কারিগর পাড়া গ্রামে।

ঐ গৃহবধূর স্বামী মোঃ পলাশ জানান, তার স্ত্রী মুক্তা (২০) গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে একাকি বাইরের টিউবওয়েলে যায়। এবং সেখান থেকে কে বা কারা পিছন থেকে আমার স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে হাত পা বেঁধে চেতনানাশক ইঞ্জেকশন পুশ করে অজ্ঞান করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে ।যার প্রমাণ স্বরূপ তার ডান হাতে, পেটে,পায়ে আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পলাশ বলেন, এরপর আমরা মুক্তাকে খুঁজতে খাকি। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে তাকে বসতভিটার সীমান্তবর্তী একটি রান্নাঘরের ভেতর থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয় ।পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি দেখে রাত ০৩ টার দিকে তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, এদিকে ঘটনা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারনে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মারফত কলারোয়া থানা পুলিশকে অবহিত করি । সেই সাথে একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন ও করা হয়। এরপর গত ১৮ অক্টোবর বিকালে কলারোয়া থানা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইসরাফিল হাসপাতাল থেকে আমাকে সাথে নিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথে মারাত্মক দূর্ব্যাবহার ও হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

এরপর হাসপাতালে আমার স্ত্রীর শয্যা পাশে থাকা শাশুড়ি আমাকে ও আমার পরিবারকে সমস্ত ঘটনার জন্য দোষারোপ করতে থাকে এবং আমাকে আমার স্ত্রীর শয্যা পাশে থাকতে দেয় না। থানার এসআই ইসরাফিল গত ১৯ অক্টোবর ৮ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাজির হয়ে পুনরায় হাজির হয়ে আবার তদন্ত করে । এবং প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে আমাদের সকাল ১০ টার দিকে থানায় হাজির হয়ে সালিশির মাধ্যমে মিটানোর জন্য বলে চলে আসে। পরে আমার স্ত্রীকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত রেফার অনুযায়ী উন্নত পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ ত্যাগ কালে ঐ এসআই ইসরাফিল বলেন যে আগে থানায় দেখা করবেন তার পর হাসপাতালে যাবেন।

এই গৃহবধুর স্বামী আরও বলেন, আমি আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বার বার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শাশুড়ির বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি । যথা সময়ে আমরা থানায় অফিসার ইনচার্জের কক্ষে হাজির হই ।তিনি সব কিছু শুনাবোঝা করে ও কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর সার্কেল এসপি মির্জা সালাউদ্দিকে অবহিত করে আমাদের অপেক্ষা করতে বলেন। অতঃপর সাতক্ষীরা সদর সার্কেল এসপি মির্জা সালাউদ্দিন কলারোয়া থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়ে চলে যান।

এদিকে আমরা ও আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করার কথা বললে থানার ঐ এসআই ইসরাফিল জানান যে কোনো এজাহার দায়ের হয়নি।

এ ঘটনায় আমার স্ত্রী হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা সন্দেহ কৃত দুই ব্যাক্তির নাম ঠিকানা দিলে স্থানীয় কিছু আ’লীগের নেতা কৌশলে তাদেরকে নির্দোষ প্রমাণের অপচেষ্টা করতে থাকে যা আইন পরিপন্থী ।

এ নিয়ে ভিকটিম মুক্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে বা কারা আমাকে ইনজেকশন পুশ করে নিয়ে যায় ।যখন জ্ঞান ফেরে তখন দেখি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের পাশে পড়ে আছি।তখন আমার হাত পা বাঁধা ছিল ।

এ সম্বন্ধে কলারোয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনির উল গিয়াসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে এখন কোনো সাক্ষাৎকার দেবো না। ফোনে জানতে পারেন। তারপর তিনি বলেন ঐ ঘটনায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আর এম ও ডাঃ শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কলারোয়ায় সেক্সুয়াল এসাল্ট পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় আমরা তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করি।

এদিকে এমন ন্যাক্কার জনক ও ভীতিকর ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন